ইরানের হামলায় ইসরাইলে ক্ষয়ক্ষতির আভাস, ১১ দিনে ক্ষতিপূরণ দাবি ৯১১৫টি
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরাইলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসন। তবে দেশটির বিভিন্ন সরকারি সূত্র ও ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়া ক্ষতিপূরণ আবেদনের তথ্য থেকে ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরাইলের ট্যাক্স অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১১ দিনেই মিসাইল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য মোট ৯১১৫টি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮২৮ জন ইসরাইলি নাগরিক ক্ষয়ক্ষতির দাবি জানিয়েছেন।
এই আবেদনের মধ্যে দেখা গেছে—
- ৬৫৮৬টি আবেদন ভবন বা স্থাপনার ক্ষতির জন্য
- ১৪৮৫টি আবেদন যানবাহনের ক্ষতির জন্য
- ১০৪টি আবেদন আসবাবপত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতির জন্য
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি এসেছে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল থেকে। তেল আবিব অঞ্চল থেকেই প্রায় ৪৬০৯ জন ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এছাড়া বেদশেমেষ ও বীর সেবা এলাকা থেকেও তিন হাজার ছয়শোর বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
চলমান সংঘাতে ইরান ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রায় ৬০০টি মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তবে প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো পর্যন্ত মোট ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি ইসরাইল সরকার। এ নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র গোপন করার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশো মিলিয়ন ইসরাইলি সেকেল ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর আগে গত জুনে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে ৫৩,৪০৯ জন ক্ষতিপূরণ দাবি করে আবেদন করেছিলেন, যেখানে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল তিন বিলিয়ন সেকেলেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার ইরান তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। আগের সংঘাতে মাত্র ১২ দিনেই প্রায় ১৬০০টি মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার একই সময়ে তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আগেরবার পুরো ইসরাইল জুড়ে হামলা চালানো হলেও, চলমান সংঘাতে প্রধানত দেশটির মধ্যাঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।

0 মন্তব্যসমূহ