রাজধানীতে আজ শপথ গ্রহণকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় নতুন আলোচনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিরোধী দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়েই তারা দুই ধরনের শপথ গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলতি মাসের ১২ তারিখ যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়। জাতি আশা করেছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম ও সমস্যার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ হয়নি।
গভীর রাতে চিঠি, তারপরও শপথে অংশগ্রহণ
বিরোধী দল জানায়, শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র তারা পেয়েছেন গভীর রাতে। তবুও নাগরিক দায়িত্বের প্রশ্নে তারা শপথ গ্রহণে অংশ নেন। আমন্ত্রণপত্রে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি জুলাই চার্টার ও গণভোটের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে।
তাদের দাবি, সরকারি দল শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল মনে করে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন মূলত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফল। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে দুই শপথ নেওয়াই ছিল তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
নেতারা বলেন, “যদি জুলাইকে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে এই সংসদ পূর্ণ মর্যাদা পাবে না।” তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কার-সংক্রান্ত শপথ নেবে।
মন্ত্রিপরিষদ শপথে অংশ নেয়নি বিরোধী দল
বিকেলে মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দল সেখানে অংশ নেয়নি। তাদের বক্তব্য, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি সরকারি দলও দুই শপথ গ্রহণ করত, তাহলে তাদের আপত্তির কারণ থাকত না বলে জানান তারা।
বিশেষ সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বিরোধী দল জানায়, তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকারি প্লট বা করমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেবেন না। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও সংযত থাকার ইঙ্গিত দেন তারা।
সহিংসতার অভিযোগ ও সরকারের প্রতি আহ্বান
নির্বাচনের রাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বেশি হামলার দাবি করা হয়। তারা সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বক্তব্য, সরকার দলীয় নয়, জনগণের। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করবে, তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদ, রাজপথ ও আইনি প্রক্রিয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতারা।
গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার
দলটির নেতারা বলেন, তারা চাইলেই শপথ এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংসদে অংশগ্রহণকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাদের অগ্রাধিকার—নাগরিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মুক্তি, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি।
বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করে তারা বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। তবে সব সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে।
শেষে তারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকার। তাদের ভাষায়, “দল বা ব্যক্তি নয়, দেশ ও জনগণই সবার আগে।”


0 মন্তব্যসমূহ