মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে জোর আলোচনা ওয়াশিংটনে
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিয়ে ওয়াশিংটনে জোর আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকলেও একই সঙ্গে দ্রুতগতিতে জড়ো হচ্ছে সামরিক শক্তি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
সিচুয়েশন রুমে বৈঠক, কূটনৈতিক তৎপরতা জেনেভায়
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইতোমধ্যে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে, আবার কখনো কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তিনি উপদেষ্টা ও মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করে সবচেয়ে কার্যকর পথ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
একই সময়ে Genevaতে যুক্তরাষ্ট্র ও Iranের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি, ইরানের প্রধান আলোচক দাবি করেছেন যে কিছু দিকনির্দেশনামূলক নীতিতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এখনো বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সামরিক প্রস্তুতি জোরদার
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আকাশ ও নৌ-সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। আধুনিকতম বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford দ্রুত মোতায়েনের প্রস্তুতিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর ট্যাংকার ও যুদ্ধবিমানও অঞ্চলটির আরও কাছে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মার্কিন চাপের মুখে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা জোরদার করেছে। কংক্রিট ও মাটির অতিরিক্ত স্তর দিয়ে স্থাপনাগুলো ঢেকে সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে।
ইসরাইলের সতর্ক অবস্থান
সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে Israel। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu নিরাপত্তা ও উদ্ধার সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালালে তেল আবিব যুদ্ধে অংশ না নিলেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এখন সবার নজর হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, অঞ্চলটি নতুন সংঘাতে জড়াবে নাকি কূটনীতির পথেই সমাধান খোঁজা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ