নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানব সভ্যতার এক নতুন মোড়বদলের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের মানবকেন্দ্রিক এআই রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন।
বিশ্বের শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও গবেষকদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, এআই কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, এটি মানব চিন্তা, কাজ ও উন্নয়নের ধরন বদলে দেবে।
ইতিহাসের নতুন অধ্যায় হিসেবে এআই
আগুনের আবিষ্কার, লিপির উদ্ভাবন কিংবা বেতার যোগাযোগের মতো ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এআই সেই ধরনেরই একটি বৈপ্লবিক শক্তি। তবে এবার পরিবর্তনের গতি ও ব্যাপ্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তার ভাষায়, “এআই শুধু মেশিনকে বুদ্ধিমান করছে না, এটি মানুষের সক্ষমতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
‘মানব ভিশন’: নৈতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই
সামিটে প্রধানমন্ত্রী ‘MANAV Vision’ বা ‘মানব ভিশন’ নামে ভারতের দায়িত্বশীল এআই কাঠামো তুলে ধরেন। এর মূল দিকগুলো হলো—
নৈতিক ও মূল্যবোধনির্ভর প্রযুক্তি উন্নয়ন
জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা
সবার জন্য সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই
আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য প্রযুক্তি কাঠামো
মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই যেন মানুষের উপর নয়, মানুষের জন্য কাজ করে।
গ্লোবাল সাউথের জন্য এআই
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই হতে পারে ক্ষমতায়নের বড় হাতিয়ার। প্রযুক্তি যেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়—এমন আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন
এআই কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে—এমন আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নির্ধারিত নয়। আজকের সিদ্ধান্তই আগামী দিনের কাজের ধরন নির্ধারণ করবে। তাই দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃপ্রশিক্ষণ ও আজীবন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈশ্বিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা
মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া কনটেন্ট রোধে এআই কনটেন্টে প্রমাণীকরণ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষা ও তথ্য নিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
সামিটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ অনুবাদের ব্যবস্থাও ছিল, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—এআই হবে মানবকেন্দ্রিক, নৈতিক এবং সবার জন্য কল্যাণমুখী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে এআইতে ভয় দেখেন, ভারত দেখে সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ।”
এই সামিট বিশ্বে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই গঠনে ভারতের নেতৃত্বকে আরও জোরালো করল।

0 মন্তব্যসমূহ