Hot Posts

6/recent/ticker-posts

মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের ঝড়: ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বালানি স্থাপনাগুলো এখন প্রধান লক্ষ্য

 


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের একাধিক হামলায় এবার সরাসরি টার্গেট হয়েছে ইসরাইলসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। এতে করে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।


ইসরাইলের বন্দরনগরী হাইফায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে আশদোদ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাকেও লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ক্ষেপণাস্ত্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে হামলার পর স্থাপনাগুলো থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।


খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক দফায় হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। নতুন ধরনের মিসাইল ব্যবহার করে হাইফা ও আশদোদের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। পাশাপাশি তেল আবিব, জেরুজালেমসহ ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।


শুধু ইসরাইল নয়, এই হামলার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। কুয়েতের মিনা আল আহমাদী তেল শোধনাগারেও আগুন লাগে, যেখানে ড্রোন হামলার পর বেশ কয়েকটি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিছু ইউনিট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।


সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব দাবি করেছে, তাদের পূর্বাঞ্চলে অন্তত দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইন ও জর্ডানও।


এদিকে পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে নেই ইসরাইল। শুক্রবার ভোর রাতে তেহরানে একাধিক দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বিশেষ করে শহরের পূর্বাঞ্চলে তীব্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কারাজ, কেরমান ও হরমোজগান প্রদেশেও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।


পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সেখানে ইরানের একাধিক নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্র অনুযায়ী, মাইন বসানোর কাজে যুক্ত ৪৪টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১২০টি জাহাজ নিশ্চিহ্ন করার দাবি করেছে পেন্টাগন।


সব মিলিয়ে, ইরান-ইসরাইল সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিস্তৃত এক বৃহৎ সামরিক ও কৌশলগত সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ