মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলায় চাপে পড়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো শুধু সামরিক নয়, বরং বেসামরিক নিরাপত্তার দিক থেকেও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কেমিক্যাল কারখানায় হামলা, ছড়াতে পারে বিষাক্ত পদার্থ
সর্বশেষ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরাইলের একটি কেমিক্যাল কারখানাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে কারখানাটিতে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের এলাকায় বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল নিয় হাব শিল্প এলাকায় অবস্থিত একটি কারখানা, যা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীর সেবা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে।
দেশজুড়ে সাইরেন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
রাতভর ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
যৌথ এই হামলায় ইসরাইলের শতাধিক শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। অনেকেই বাংকারে আশ্রয় নেয়।
আইডিএফ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া কিছু রকেট প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেশ কিছু খোলা স্থানে পড়েছে।
২৪ ঘণ্টায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচ দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রোববার দুপুরের পর থেকে হামলার তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
জেরুজালেমসহ মধ্য ইসরাইল, সফেলা অঞ্চল এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন শোনা গেছে।
এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য না পাওয়া গেলেও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীর সেবায় অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত
এদিকে, ইরানের হামলা শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সেনা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও তাদের মিত্রদের সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরাইলের ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করে কৌশলগতভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। যে কোনো সময় এই সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
0 মন্তব্যসমূহ