Hot Posts

6/recent/ticker-posts

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্রতর: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় অভিযান



মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে এবং সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। তেহরানে সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত নয়টি দেশে, যেগুলোর বেশিরভাগেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইসরায়েলে একাধিকবার সাইরেন বেজেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।


“অপারেশন এপিক ফিউরি”: পেন্টাগনের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য অত্যন্ত নির্দিষ্ট।
লক্ষ্যগুলো হলো—

  • ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা

  • ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া

  • নৌবাহিনী ও নিরাপত্তা অবকাঠামো অকার্যকর করা

  • ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া

প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, “আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, তবে আমরা এটি শেষ করব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আমেরিকানদের লক্ষ্য করে হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu হামলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।


কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে গেল

এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। জেনেভায় বৈঠক হয়েছে, ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনারও প্রস্তুতি ছিল।

তবে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান আলোচনার আড়ালে সময়ক্ষেপণ করছিল এবং গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছিল। প্রশাসন বলছে, ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইউরোপ ও এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


কংগ্রেসে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

ওয়াশিংটনে এখন বড় প্রশ্ন— প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে কতদূর পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন?
কংগ্রেসে একটি “ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন” আনার প্রস্তুতি চলছে, যার মাধ্যমে প্রশাসনের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio ও সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ কংগ্রেস সদস্যদের ব্রিফ করবেন। তবে এমন কোনো প্রস্তাব পাস হলেও প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া তা কার্যকর হবে না।


ইরানের ভেতরে অনিশ্চয়তা

চার দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে বড় ধরনের ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী তিন সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে, যতক্ষণ না নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়।

রাজধানী তেহরানে সরকারি শোক সমাবেশ দেখা গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। কেউ কেউ খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানালেও, সরকার সতর্ক করেছে— এ ধরনের উদযাপন রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেননি, কী ধরনের শাসনব্যবস্থা তিনি দেখতে চান।


আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরান ইতিমধ্যে কুয়েত, বাহরাইন, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি। তারা কি কৌশলগতভাবে হামলা সীমিত রাখছে, নাকি তাদের অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে— তা এখনো পরিষ্কার নয়।

যুদ্ধ কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগগিরই হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন।

পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে, এই সংঘাত সীমিত পর্যায়ে থাকবে নাকি পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ