ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী নৌবহর মোতায়েন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। পরমাণু চুক্তিতে তেহরান সই না করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন তিনি। তবে ওমানকে ঘিরে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া একতরফা শর্তে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না ইরান।
কঠোর ভাষায় হুমকি দিলেও এখনো পর্যন্ত সরাসরি হামলার পথে হাঁটেননি ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত হতে পারে বলেই হোয়াইট হাউস বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
দ্রুত ফল চান ট্রাম্প, কিন্তু ইরান ভিন্ন বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা অভাবনীয় হলেও ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সহজ নয়। ট্রাম্প সাধারণত দ্রুত ফলাফল পছন্দ করেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হলে তা দীর্ঘমেয়াদে গড়াতে পারে।
গত কয়েক দশকে ইরান এমনভাবে প্রতিরক্ষা কৌশল গড়ে তুলেছে, যাতে তারা দ্রুত জয় না পেলেও প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে। লক্ষ্য হলো যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে শত্রুর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মনোবল ক্ষয় করা।
মিসাইল সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যয়
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের কাছে রয়েছে স্বল্পমূল্যের কিন্তু কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। এসব হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে হয় উচ্চমূল্যের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল, যার প্রতিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শুধু দাম নয়, এসব প্রতিরক্ষা মিসাইল পুনরায় উৎপাদন করতেও সময় লাগে।
এ কারণে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর যে চাপ পড়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—ইরানের সঙ্গে বড় যুদ্ধে জড়ালে সরঞ্জাম ঘাটতি বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রক্সি ঝুঁকি
ইরান সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে না গিয়েও ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিয়মিত হামলার কৌশল নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট ব্যাহত হতে পারে। উপসাগরীয় বাণিজ্যনির্ভর শহরগুলোও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে।
এছাড়া ইয়েমেনভিত্তিক Ansar Allah গোষ্ঠীর মাধ্যমে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা আসতে পারে।
শক্তি প্রদর্শন, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়?
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ঝুঁকি নিতে পছন্দ করলেও তিনি এমন পদক্ষেপ এড়াতে চান যা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ডেকে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাত তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধের বদলে প্রতীকী বা সীমিত হামলার মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দুই পক্ষই কঠোর ভাষায় অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সামান্য ভুল হিসাবই অঞ্চলটিকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

0 মন্তব্যসমূহ