গেজেট প্রকাশের পরই বিতর্কিত আসনগুলোতে শপথ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি তুলেছে একটি রাজনৈতিক দল। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল “ম্যানিপুলেট” করে প্রকৃত বিজয়ীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। তাই অবিলম্বে পুনর্গণনা ছাড়া শপথ না দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে বলে দলটির নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, “আমরা জাতিকে জানাতে চাই, পুনর্গণনা হলেই সত্য প্রকাশিত হবে। যারা নিশ্চিতভাবে বিজয়ী ছিলেন, তাদের ফলাফল ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শপথ স্থগিত রেখে নিরপেক্ষ পুনর্গণনার মাধ্যমে প্রকৃত বিজয়ীদের ঘোষণা দিতে হবে।”
৩০টির বেশি আসনে অনিয়মের অভিযোগ
দলটির দাবি, ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ঘোষিত অন্তত ৩০টি আসনে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। এসব আসনের একটি প্রাথমিক তালিকাও গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আসনের ব্যবধান তুলে ধরে তারা জানান:
- পঞ্চগড়-১ – ৮,৯২০ ভোট
- ঠাকুরগাঁও-২ – ৫,৩১০ ভোট
- দিনাজপুর-৩ – প্রায় ৪,৫০০ ভোট
- দিনাজপুর-৪ – ৪,৮৩১ ভোট
- লালমনিরহাট-১ – ৯,১৪১ ভোট
- লালমনিরহাট-২ – ৮,১৯১ ভোট
- গাইবান্ধা-৩ – ৩৩৪ ভোট
- বগুড়া-৩ – ২,১৫৬ ভোট
- সিরাজগঞ্জ-১ – ৮,৪০০ ভোট
- যশোর-২ – ৭,৮৯৪ ভোট
- খুলনা-৩ – ৮,৮৩৫ ভোট
- খুলনা-৪ – ২,৬০৮ ভোট
এছাড়াও বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের একাধিক আসনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অল্প ব্যবধানে ফল বদলের অভিযোগ
দলটির নেতারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিছু আসনে অল্প ব্যবধানে ফলাফল ঘোষণার আগে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। পরে “কষামাজা” করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
উদাহরণ হিসেবে কক্সবাজার-১ ও চট্টগ্রাম-১৪-এর কথা তুলে ধরা হয়। তাদের দাবি, একটি আসনে প্রথমে জয়ের আভাস থাকলেও পরবর্তীতে ১,০২৬ ভোটের ব্যবধান দেখিয়ে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকার কয়েকটি আসনেও ১,৩১৫, ১,০৯৮ ও ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধান দেখিয়ে ফল ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য, “প্রতিটি আসন থেকেই নিশ্চিত বিজয়ের বার্তা পাচ্ছিলাম। কিন্তু ফল ঘোষণায় ভিন্ন চিত্র দেখানো হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনের প্রতি চূড়ান্ত আহ্বান
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে পুনর্গণনার উদ্যোগ নেয়, তাহলে প্রকৃত ফলাফল সামনে আসবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় এটি অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পুনর্গণনার দাবির প্রেক্ষিতে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সামনে আসতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ