কার হাতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেখতে চান জামায়াত আমির
ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াত-e-ইসলামী’র নির্বাচনী ঘোষণা এবং রাষ্ট্রপতি নিয়ে থাকল কী ইঙ্গিত
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামি রাজনৈতিক দল জামায়াত-e-ইসলামী এবং তার আমীর ডা. শফিকুর রহমান নানা জাতীয় ইস্যুতে বক্তৃতা করছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী রাষ্ট্র পরিচালনা, ক্ষমতা দখল বা সরকারের শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে কারা দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন। এর মধ্যে একটি আলোচিত প্রশ্ন ছিল, “যদি ক্ষমতায় আসেন, আপনি কাকে রাষ্ট্রপতি বানাতে চান?”
বিশেষভাবে এই প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণা করেননি। বরং তিনি তার দলের নীতিগত দিক এবং সরকারের গঠন কেমন হবে, সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।
১. নির্দিষ্ট নাম না বলা
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের উচ্চ পদের লোক নির্বাচন বা দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের দল ও জোটের মধ্যে আলোচনা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত কোনো রাষ্ট্রপতি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম তিনি চান হিসেবেই ঘোষণা করেননি।
এর বদলে তার বক্তব্যের মূল সার হলো:
- দলটি রাষ্ট্রের পদের জন্য অভিজ্ঞ, যোগ্য ও ন্যায্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করতে চায়।
- নৈতিক ও দক্ষ নেতৃত্ব সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে রাখা হবে।
- যিনি রাষ্ট্রপতি হোন, তিনি জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ও মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জোট নির্বাচনে জয়ী হলে জামায়াত-e-ইসলামী পদগুলোতে নির্দিষ্ট নামের আগেই নীতিগত দিক নির্দেশ করবে।
২. মন্ত্রী এবং অন্যান্য দায়িত্ব
এছাড়া একই সময়ে জামায়াত আমীর আরও বলেছেন, জোট যদি ক্ষমতায় আসে তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে তাদের জোট পার্টনারদের। যেমন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলামকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তারা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জোটের সদস্যদের ক্ষমতায় আনতে আগ্রহী।
৩. নেতৃত্ব ও নীতির গুরুত্ব
শফিকুর রহমান বারবার বলেন যে, আগামীর সরকার হবে জনতার সরকার, পরিবার-ভিত্তিক বা ব্যক্তিবিশেষের শাসন নয়। তিনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন নতুন সরকার দূর্নীতিমুক্ত, ন্যায্য ও সুযোগসাধারণের জন্য কাজ করবে।
তার ভাষায়:
- রাজনৈতিক পরিবার বা রাজনীতি-শেষ হয়ে যাবে,
- সাধারণ মানুষের ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে,
- এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়েও এই নীতিগুলো কার্যকর হবে।
শেষ কথা
জামায়াত-e-ইসলামী এর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি ক্ষমতায় এলে কাকে রাষ্ট্রপতি বানাবেন তা নির্দিষ্ট করে এখনই ঘোষণা করেননি। তিনি নীতিগত দিক এবং নির্বাচনজয়ী জোটসহ নেতৃত্বের গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দলটি শীর্ষপদে কে যাক তা মূলত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রেফারেন্স
- জামায়াত আমির বলেন তিনি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের নাম ঘোষণা করেননি, নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন. সম্পূর্ণ সংবাদ পড়ুন – শময়ের আলো
- জামায়াত আমির প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রীর পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন. Daily Sun Politics সংবাদ
- শফিকুর রহমানের বক্তৃতায় “জনতার সরকার” গঠনের কথা. Observer Online রিপোর্ট

0 মন্তব্যসমূহ